পাহাড়ের চূড়ায়, চারদিকে ঘন সবুজের মাঝে স্থির স্বচ্ছ জলের এক পুকুর — যার পানি নাকি কখনো শুকায় না। খাগড়াছড়ির দেবতা পুকুর শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র এক তীর্থ। পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক পরিচিতির জন্য পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।
পুকুর ও স্থানীয় বিশ্বাস
- অবস্থান: নুনছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় — খাগড়াছড়ি শহর থেকে খাগড়াছড়ি–মহালছড়ি সড়কে মাইসছড়ি হয়ে পৌঁছাতে হয়; পুকুরটি পাহাড়চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১,০০০ ফুট উঁচুতে (উচ্চতা নিয়ে সূত্রে ভিন্নতা আছে)।
- ত্রিপুরা ভাষায় এর নাম ‘মাতাই পুখিরি’ — অর্থই ‘দেবতা পুকুর’।
- স্থানীয় বিশ্বাস (কথিত আছে): মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে স্বয়ং জলদেবতা এই পুকুর খনন করেছিলেন; তাই এর পানি শুকায় না, দূষিতও হয় না। বিশ্বাস করা হয়, এই পুকুরে স্নান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
- প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে পুণ্য লাভের আশায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অজস্র মানুষ এখানে ভিড় করেন — সেই সময় গেলে ভিড়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
- দর্শনীয় স্থান হলেও এটি একটি পূজা-অর্চনার পবিত্র জায়গা: শান্ত পরিবেশ বজায় রাখুন, পুকুরের পানিতে ময়লা ফেলবেন না, স্থানীয়দের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রাখুন।
ওপরে ওঠা: সিঁড়ির চ্যালেঞ্জ
নুনছড়ি গ্রাম থেকে গাছপালায় ছায়াঘেরা হাজারের বেশি ধাপের সিঁড়ি বেয়ে চূড়ায় উঠতে হয় — মোট সময় লাগে আনুমানিক ৩৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা (গতি ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী)। এটি এই ভ্রমণের সবচেয়ে কষ্টের, আবার সবচেয়ে মজার অংশও।
- সঙ্গে পর্যাপ্ত পানীয় জল রাখুন — পথে ও চূড়ায় কেনার ব্যবস্থা নিশ্চিত নয়।
- আরামদায়ক, গ্রিপওয়ালা জুতা পরুন; ধীরে উঠুন, দরকারে বিশ্রাম নিন।
- হৃদরোগী বা হাঁটুর সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ওঠাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে — নিজের সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।
কীভাবে যাবেন
খাগড়াছড়ি শহর থেকে খাগড়াছড়ি–মহালছড়ি সড়ক ধরে প্রায় ৭ কিলোমিটার গেলে মাইসছড়ি; সেখান থেকে আরও প্রায় ৪ কিলোমিটার ভেতরে নুনছড়ি ত্রিপুরা গ্রাম — চান্দের গাড়ি, সিএনজি বা ভাড়া গাড়িতে গ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ ও তারপর সিঁড়ির ওঠা। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের দিক থেকে আসা পর্যটকেরা একই দিনে দুটো স্পট মিলিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন (দূরত্ব ও সময় আগে যাচাই করে নিন)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পুকুরে স্নান করা যায়?
স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পুণ্যার্থীরা স্নান করেন; তবে এটি পবিত্র স্থান — স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করে, শালীনতা বজায় রেখে চলুন।
সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
শীতের সকালে ওঠা আরামদায়ক; বর্ষায় সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়। চৈত্র সংক্রান্তির সময় গেলে ধর্মীয় আবহ পাবেন, তবে ভিড়ও সর্বোচ্চ।
শেষকথা
দেড় হাজার ধাপের ক্লান্তি চূড়ায় পৌঁছে স্বচ্ছ জলে চোখ পড়লেই উধাও — দেবতা পুকুর সেই ধরনের জায়গা। খাগড়াছড়ি পর্বের পর পাহাড়ের অন্য ধারায় যেতে পড়ুন লামা: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বর্গ।