• 31 Oct, 2026

স্বপ্নপুরী ও আশুরার বিল ভ্রমণ গাইড — নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জে স্বপ্নপুরী পার্কের রাইড ও কটেজ, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের শালবন, আশুরার বিলের মাছ-পাখি ও বিখ্যাত কাঠের সেতু, যাওয়ার উপায়সহ।

দিনাজপুরের দক্ষিণ-পূর্বে, নবাবগঞ্জ উপজেলায় পাশাপাশি দুই বিপরীত অভিজ্ঞতা: একদিকে মানুষের বানানো স্বপ্নপুরী — কৃত্রিম পাহাড়-লেকের বিনোদন পার্ক; অন্যদিকে প্রকৃতির আশুরার বিল আর শালবন — নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান। একদিনে দুটোই দেখা যায়, আর তুলনাটাই মজার।

স্বপ্নপুরী: মৃত জলাশয় থেকে স্বপ্নের রাজ্য

১৯৮৯ সালে আফতাবগঞ্জের খালিশপুর মৌজায় একটি মৃত জলাশয়কে রূপান্তর করে গড়ে ওঠে স্বপ্নপুরী (দিনাজপুর স্টোর/বাংলা উইকিপিডিয়া)। এলাকার হিসাবে সূত্রভেদ আছে — বর্ণনায় ১৫০ থেকে ৪০০ একর পর্যন্ত বলা হয়; ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়া পার্কটি পরিচালনা করেন শিবলী সাদিক (বাংলা উইকিপিডিয়া)। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার, ফুলবাড়ী থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার (আদার ব্যাপারী/ভ্রমণগাইড)। ভেতরে কৃত্রিম লেক ও পাহাড়, ঝর্ণা, চিড়িয়াখানা, মৎস্য জগত, রাইড, "রংধনু" আর্ট গ্যালারি, "মহা মায়া ইন্দ্রজাল" জাদু গ্যালারি, মাটিতে নির্মিত বাংলাদেশের মানচিত্র, শালবাগান ও অসংখ্য ভাস্কর্য (ভ্রমণট্রিপস/ভ্রমণগাইড)। চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট হিসেবেও এটি পরিচিত (আদার ব্যাপারী)। থাকার জন্য সন্ধ্যাতারা, নীলপরী, নিশিপদ্ম, রজনীগন্ধা, মেঠোঘর ও ভিআইপি কুঞ্জ নামের কটেজ আছে (ভ্রমণগাইড)। গাইড অনুযায়ী প্রবেশ ফি জনপ্রতি ১০০ টাকা, রাইডের টিকিট আলাদা (ভ্রমণট্রিপস/ভ্রমণগাইড) — রংপুরের ভিন্নজগতের মতোই এখানে শীতের পিকনিক মৌসুমে ভিড় সবচেয়ে বেশি।

নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান: পঞ্চবটীর শালবন

নবাবগঞ্জ সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ৫১৭.৬১ হেক্টর সংরক্ষিত শালবন — স্থানীয়ভাবে "পঞ্চবটীর বন" বা "শালবাগান" (আদার ব্যাপারী/ইংরেজি উইকিপিডিয়া)। ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয় (ঘোষণার সময় নাম ছিল শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান; বর্তমানে নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান নামে পরিচিত)। প্রধান গাছ শাল ও সেগুন; এছাড়া গামার, কড়ই, জাম, বাঁশ-বেতসহ ২০–৩০ প্রজাতি। প্রাণীর মধ্যে বনবিড়াল, মেছোবাঘ ও নানা সাপ থাকলেও সন্ধ্যার পর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় খেঁকশিয়াল (ইংরেজি উইকিপিডিয়া/আদার ব্যাপারী)। নওগাঁর আলতাদীঘির শালবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বরেন্দ্র-উত্তরের শালবন-বলয়ের ছবিটা স্পষ্ট হয়। বনের ভেতরে আছে সীতাকোট বৌদ্ধবিহারের প্রত্ননিদর্শন, যাকে ঘিরে সীতার বনবাসের কিংবদন্তি প্রচলিত (উইকিভ্রমণ)।

আশুরার বিল: দুই বনের মাঝে জলের রাজ্য

শালবনের দুই অংশের মাঝখানে প্রায় ৬০০ একর জলাভূমি (বিরামপুর অংশ মিলিয়ে মোট প্রায় ৮৫৭ একর) — আশুরার বিল, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার (আইসিটি ওয়ার্ল্ড/আমার হাওর)। বিলটি দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম: বিলুপ্তপ্রায় লাল খলশেসহ ৮ প্রজাতির বিরল মাছ, বিখ্যাত বোয়াল-পাবদা, বছরে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন মাছ (বাংলা উইকিপিডিয়া)। জলে শাপলা ও পদ্ম ফোটে; দুই দশক পর শীতে আবার হাজারো অতিথি পাখি ফিরে আসতে শুরু করেছে (আমার হাওর)। সৎ নোট: একসময় অবৈধ দখলে বিলটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল; পানি ধরে রাখতে ক্রস ড্যাম নির্মাণসহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলেছে (আমার হাওর)। বিলের ওপর দিয়ে যায় এলাকার সবচেয়ে আলোচিত স্থাপনা — ৯০০ মিটার দীর্ঘ আঁকাবাঁকা শালকাঠের সেতু, উদ্বোধন ২০১৯ সালের ১ জুন (আদার ব্যাপারী)। সেতুতে হেঁটে বিল-বনের পুরো দৃশ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়; বিলে নৌকাভ্রমণও হয় (উইকিভ্রমণ)।

ভ্রমণ তথ্য

যাওয়ার সহজ পথ: ট্রেনে ফুলবাড়ী বা বিরামপুর নেমে অটো/ভ্যানে (বিরামপুর থেকে উদ্যান ~২০ মিনিট — উইকিভ্রমণ)। ছন্দ: সকালে স্বপ্নপুরী, বিকেলে আশুরার বিলের সেতুতে সূর্যাস্ত। শীতে অতিথি পাখি ও পিকনিক, বর্ষায় বিলের পূর্ণ রূপ — দুই ঋতুর দুই চেহারা। বনে সন্ধ্যার পর থাকা এড়িয়ে চলুন; শিয়ালসহ বন্যপ্রাণী থেকে দূরত্ব রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

স্বপ্নপুরী কবে, কোথায় গড়ে ওঠে?

১৯৮৯ সালে, নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জে, মৃত জলাশয়কে রূপান্তর করে (দিনাজপুর স্টোর)।

স্বপ্নপুরীর প্রবেশ ফি কত?

গাইড অনুযায়ী জনপ্রতি ১০০ টাকা; রাইড আলাদা (ভ্রমণগাইড)।

নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান কত বড়, কবে ঘোষণা?

৫১৭.৬১ হেক্টর; ঘোষণা ২৪ অক্টোবর ২০১০ (ইংরেজি উইকিপিডিয়া)।

কাঠের সেতুটি কত লম্বা?

প্রায় ৯০০ মিটার, শাল কাঠের; উদ্বোধন ১ জুন ২০১৯ (আদার ব্যাপারী)।

আশুরার বিলে কী মাছ বিখ্যাত?

বোয়াল ও পাবদা; লাল খলশেসহ বিরল প্রজাতিও আছে (বাংলা উইকিপিডিয়া)।

শেষকথা

কৃত্রিম পাহাড়ের পাশে সত্যিকারের শালবন, বানানো লেকের পাশে জীবন্ত বিল — নবাবগঞ্জে একদিনেই বোঝা যায়, প্রকৃতির আসলটা কেন আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।