• 29 Oct, 2026

আলীকদম ভ্রমণ গাইড: আলীর গুহায় রহস্যের সুড়ঙ্গ আর দামতুয়া ঝর্ণার দীর্ঘ ট্রেক

আলীকদম ভ্রমণ গাইড: আলীর গুহায় রহস্যের সুড়ঙ্গ আর দামতুয়া ঝর্ণার দীর্ঘ ট্রেক

আলীকদমের পূর্ণ গাইড — আলীর গুহা (সুড়ঙ্গ) যাওয়ার ঝিরি পথ, দামতুয়া ঝর্ণার ট্রেক, আর্মি ক্যাম্প এন্ট্রি ও একই দিনে ফেরার নিয়মসহ হালনাগাদ তথ্য।

বান্দরবানের দক্ষিণের উপজেলা আলীকদম (বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ১১১ কিমি) — ২০২৪ সালের শেষদিকে আবার পর্যটকদের জন্য খুলে যাওয়া এই উপজেলার দুই বড় আকর্ষণ: অন্ধকার আলীর গুহা আর দীর্ঘ ট্রেকের শেষে দামতুয়া ঝর্ণা। জেলার পুরো ছবির জন্য পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।

আলীর গুহা (আলীর সুড়ঙ্গ)

  • উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে, মাতামুহুরী নদী-তৈন খাল ঘেঁষে দুই খাড়া পাহাড়ের গায়ে প্রকৃতির গড়া সুড়ঙ্গসদৃশ গুহা — স্থানীয়ভাবে একাধিক গুহামুখ আছে।
  • পথ: মংচুপ্রু মারমা পাড়া পর্যন্ত সিএনজি/মোটরসাইকেল, তারপর জঙ্গলের হাঁটাপথ ও পাথুরে ঝিরি ধরে প্রায় ৪০০ মিটার গেলেই গুহা। ঝিরির পানিস্রোতের ২০–২৫ ফুট ওপরে প্রবেশমুখ — সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের তৈরি দুটি লোহার সিঁড়ি ওঠা সহজ করেছে।
  • ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার — শক্তিশালী টর্চ ছাড়া ঢোকা যাবে না; এক প্রান্তে আলোর রেখা দেখার রোমাঞ্চই এখানকার খ্যাতি।
  • নামের উৎপত্তি নিয়ে লিখিত প্রমাণ নেই; স্থানীয় প্রবীণদের মতে এর সম্পর্ক ‘আলেকোয়াতং’ পাহাড়ের সঙ্গে (মারমা শব্দে পাহাড়টির ঐতিহ্য বুনো কবুতর ও উৎসর্গের সঙ্গে জড়িত) — এটুকু লোকবিশ্বাস হিসেবেই রাখুন। স্থায়ী গাইড পোস্ট নেই — স্থানীয় পরিচিত গাইড নেওয়াই নিরাপদ।

দামতুয়া ঝর্ণা

  • আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টে আদুপাড়া থেকে গাইড নিয়ে শুরু ট্রেক; ঘুরে আসতে মোটামুটি ৫–৬ ঘণ্টার অভিযান — পথে আরও ঝিরি-ঝর্ণা পড়ে।
  • সড়কের ১০ কিলোমিটার পয়েন্টে আর্মি ক্যাম্পে পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বর দিয়ে এন্ট্রি বাধ্যতামূলক; বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরে রিপোর্ট করতে হয় এবং পথে রাত কাটানো অনুমোদিত নয় — অর্থাৎ এটি কঠোরভাবে ডে-ট্রেক।
  • গাইড ফি আদুপাড়ায় দলভিত্তিক (সাম্প্রতিক গাইড-তথ্যে ৫০০–৮০০ টাকা; দরদাম করে চূড়ান্ত করুন)। ঝর্ণা পূর্ণরূপ পায় জুন-অক্টোবরে; অতিবৃষ্টিতে পথ পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক — পূর্বাভাস দেখে রওনা দিন। একই উপজেলায় রূপমুহুরী ঝর্ণাও আরেকটি পরিচিত গন্তব্য।
  • যাতায়াতের পথেই পড়ে ডিম পাহাড় — থানচি-আলীকদম সড়কের বিখ্যাত উঁচু অংশ, দেশের সর্বোচ্চ সড়কগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

প্রস্তুতি

ভালো গ্রিপের জুতা, লম্বা মোজা (জোঁক থাকে), পানি-স্যালাইন-শুকনো খাবার, হালকা ব্যাগ ও পরিচয়পত্রের কপি — এই তালিকা দুটো গন্তব্যের জন্যই প্রযোজ্য। আলীকদমে থাকার ব্যবস্থা সীমিত মানের; অনেকেই দিনে ঘুরে চকরিয়া/ঢাকার পথে ফিরে যান।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আলীকদমের সরাসরি বাস চলে; সহজ বিকল্প: চকরিয়া নেমে (চকরিয়া থেকে প্রায় ৪৫ কিমি) লোকাল বাস/চাঁন্দের গাড়িতে আলীকদম। সকালে পৌঁছে একই দিনে দুটো গন্তব্য টানাটানি না করে — একদিন আলীর গুহা, অন্যদিন দামতুয়া — এভাবে সাজানোই বাস্তবসম্মত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

আলীকদম কি এখন খোলা?
হ্যাঁ — ২০২৪ সালের শেষে উপজেলাটি পুনরায় খুলেছে; চেকপোস্টে নিবন্ধন ও একই দিনে ফেরার নিয়ম প্রযোজ্য।

আলীর গুহায় গাইড লাগবে?
বাধ্যতামূলক নয়, তবে পথ দুর্গম ও গুহা অন্ধকার বলে স্থানীয় গাইড নেওয়া প্রবলভাবে সুপারিশ করা হয়।

শেষকথা

আলীকদম এখনো ভিড়ের বাইরে — তার মূল্যও সেখানেই। জেলার পাশের পরিচিত গন্তব্য দেখতে পড়ুন লামা: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বর্গ।