• 29 Oct, 2026

আলুটিলা গুহা ভ্রমণ গাইড: মশাল হাতে ‘দেবতার গুহা’র অন্ধকার সুড়ঙ্গে

আলুটিলা গুহা ভ্রমণ গাইড: মশাল হাতে ‘দেবতার গুহা’র অন্ধকার সুড়ঙ্গে

আলুটিলা গুহার পূর্ণ গাইড — ৩৫০ ফুট অন্ধকার সুড়ঙ্গ, ২৬৬ ধাপ সিঁড়ি, মশাল ভাড়া, টিকিট ও অনলাইন বুকিং এবং খাগড়াছড়ি থেকে যাওয়ার উপায়।

খাগড়াছড়ির সবচেয়ে পরিচিত অ্যাডভেঞ্চার — পাহাড়ের বুক চিরে যাওয়া, পূর্ণ অন্ধকার, মশালের আলোয় পিচ্ছিল পথের আলুটিলা গুহা। পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক ধারণার জন্য পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।

গুহার তথ্য

  • অবস্থান: আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, মাটিরাঙ্গা উপজেলা — খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে, আলুটিলা (আরবারি) পাহাড়ে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৩,০০০ ফুট উঁচুতে।
  • স্থানীয়দের কাছে এর নাম ‘মাতাই হাকড়’ বা ‘দেবতার গুহা’।
  • দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ ফুট; ভেতরে সূর্যের আলো পৌঁছায় না — সারাক্ষণ ঘোর অন্ধকার আর শীতল হাওয়া। তলদেশ পাথুরে ও পিচ্ছিল, মাঝ দিয়ে ছোট ঝরনা-ধারা বয়ে যায়।
  • পাহাড়চূড়া থেকে ২৬৬ ধাপ সিঁড়ি নেমে গুহামুখে (ব্যাস প্রায় ১৮ ফুট) পৌঁছাতে হয়; এক মুখ দিয়ে ঢুকে অন্য মুখ দিয়ে বের হতে ১০–১৫ মিনিট লাগে — মাঝে কয়েক জায়গায় ছাদ এত নিচু যে মাথা নুইয়ে, কোথাও হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। বেরোনোর পথে আবার শ-দেড়েক ধাপ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়।

টিকিট ও মশাল

  • কেন্দ্রে প্রবেশের টিকিট সূত্রভেদে ৩০–৫০ টাকা; জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এখন ঘরে বসে অনলাইনেও অগ্রিম টিকিট কেনা যায় (জেলা প্রশাসনের ই-টিকেটিং পেজ: alutila.dc-khagrachhari.gov.bd)।
  • গুহামুখে বাঁশের মশাল কিনতে হয় (সামান্য দামে) — এটাই ভেতরের প্রধান আলো; নিজের শক্তিশালী টর্চ বা চার্জ-লাইট থাকলে আরও ভালো। মোবাইলের ফ্ল্যাশে ভরসা করবেন না।
  • গ্রিপওয়ালা জুতা আবশ্যক: ভেতরের পাথর ও কাদা অত্যন্ত পিচ্ছিল। স্যান্ডেল/স্লিপারি জুতোয় ঢোকা ঝুঁকির।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে শান্তি/হানিফ/শ্যামলীসহ বিভিন্ন পরিবহনের সরাসরি বাসে খাগড়াছড়ি; চট্টগ্রাম অক্সিজেন মোড় থেকে বিআরটিসি ও শান্তি পরিবহনের বাস চলে (৪–৫ ঘণ্টা)। পর্যটন কেন্দ্রটি খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠিক পাশে — চট্টগ্রাম থেকে আসা বাসে সুপারভাইজারকে বললে কেন্দ্রের সামনেই নামিয়ে দেয়। শহর থেকে সিএনজি/জিপে ১৫–২০ মিনিট। দল বড় হলে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে সেদিনই কাছের রিসাং ঝর্ণাটাও ঘুরে আসুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

শিশু বা বয়স্কদের জন্য গুহাটা নিরাপদ?

২৬৬ ধাপ ওঠানামা আর পিচ্ছিল পথ থাকায় খুব ছোট শিশু ও হাঁটু-সমস্যায় ভোগা বয়স্কদের জন্য ভেতরে যাওয়া কষ্টকর — তাদের জন্য কেন্দ্রের ওপরের ভিউ অংশই ভালো।

কোন সময় যাওয়া ভালো?

শীতকালে পথ তুলনামূলক শুকনো থাকে; বর্ষায় ভেতরের ধারার পানি বাড়ে ও পথ আরও পিচ্ছিল হয় — সতর্কতা বাড়িয়ে নিন।

শেষকথা

মশালের কাঁপা আলোয় পাথরের দেয়াল আর নিজের প্রতিধ্বনি — আলুটিলা খাগড়াছড়ি সফরের সবচেয়ে জীবন্ত পনেরো মিনিট। পাহাড়ি ভ্রমণের ধারা ধরে এগোতে পড়ুন লামা: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বর্গ।